top of page
Search

Environment - Life - Nature

  • Subrata Shuvro
  • Jun 25, 2022
  • 7 min read

Updated: Jun 27, 2022



পৃথিবী ক্রমেই ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে গবেষকরা, পরিবেশবিদরা বলে আসছে অনেক দিন ধরেই।

প্রকৃতির ভারসাম্যহীনতার দিকে খেয়াল করলে আমরা নিজেরাও সেটা টের পাচ্ছি। কখনও ভূমিকম্পের আর কখনওবা সুনামির মতো প্রলয়ঙ্কারী সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় কেড়ে নিচ্ছে এক একটা দেশের কিছু অংশকে। এর মূলে রয়েছে দূষণ, আর দূষণ থেকে সৃষ্ট উষ্ণায়নই প্রধান কারণ। দিন দিন যেভাবে মানুষ দূষনের লীলায় মেতে উঠেছে তাতে পৃথিবীর অবলুপ্তি অবশ্যম্ভাবী, ও পৃথিবীর অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তুলছে। এমনিতেই পৃথিবীতে হুহু করে মানুষের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। পরিসংখ্যানে গত ৫০ বছরে ১৩০ শতাংশ হারে বেড়েছে মানুষের সংখ্যা। এর সঙ্গে প্রতিদিন বেড়ে চলেছে মানুষের চাহিদা। প্রাকৃতিক সম্পদের অত্যধিক ব্যবহার পরিবেশের ভারসাম্যকে নষ্ট করছে। ভুলে গেলে চলবে না, মহাবিশ্বে পৃথিবীই মানুষের একমাত্র ঠিকানা। এক অদ্বিতীয় আবাসস্থল। আর সেই পৃথিবীর জলবায়ু আজ শুধু বিপর্যস্তই নয় বিপন্ন করে তুলেছে প্রাণিজগতের টিকে থাকা। আর প্রকৃতির এই বিরূপ আচরণের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণগুলো মানুষেরই তৈরি, সবুজের বৃক্ষরাজি সাফ করে দিয়ে যত্রতত্র কলকারখানা ও কংক্রিটের জঞ্জাল তৈরি করা। যানবাহন ও কলকারখানা থেকে যে কার্বন নির্গমন হয়, তা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল দূষিত করছে মারাত্মকভাবে।



নিজের পরিবেশে বদল এনে, নিজের খাদ্যাভ্যাসে - 

লক্ষ লক্ষ বছর ধরে প্রাণি ও জীবজগত বিবর্তিত হয়েছে এই পৃথিবীতে একই সঙ্গে পরস্পরের হাত ধরে। প্রাণিজগৎ আর প্রকৃতির পারস্পরিক নির্ভরশীলতাতেই তৈরি হয়েছে আমাদের এই চিরচেনা পৃথিবীর পরিবেশ। যার বাইরে গেলে মানুষের টিকে থাকা কোনভাবেই সম্ভব নয়। প্রতিটি দেশে সঠিক পরিবেশবান্ধব নীতি প্রণয়ন করতে পারলে পৃথিবীর ধ্বংস রোধ করা সম্ভব। মানুষ চাইলেই বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাকে পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তুলতে পারে। কলকারখানা, যানবাহন, বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিনোদন কেন্দ্র, দৈনন্দিন ব্যবহার্য সব সামগ্রীকেই পরিবেশবান্ধব করে নিতে পারে মানুষ। মানুষের ইচ্ছেই সবকিছু। ভোগের লাগাম এবং ব্যবসায়িক মুনাফা লাভের লোভের লাগাম টেনে সামলে নেয়াটা জরুরী হয়ে পরেছে। যন্ত্রের ব্যবহার, শক্তি বা জ্বালানি বাঁচিয়ে দূষণ ও খরচ কমিয়ে মানুষকে নিজ হাতেই কাজ করে কিভাবে ভালো থাকা যায় তার উপায়গুলো নিজেদেরকেই খূঁজে বের করতে হবে। প্লাস্টিক, প্লাস্টিকজাত বোতল বা অন্য সামগ্রীর ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে যথাসম্ভব। প্রযুক্তিগত বর্জ্য তৈরি হয় এমন জিনিসপত্র ব্যবহারও কমিয়ে ফেলতে হবে যথাসাধ্য। এমনকি আমাদের খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন অতীব জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে, প্রতিদিন মাংস, মাছ বা প্রাণিজ খাবার না খেয়ে সপ্তাহে ২ বা ততোধিক নিরামিষ বা সবজি খাওয়া যায়। পরিহার করতে হবে বিষাক্ত পদার্থ বা কেমিক্যাল আছে এমন খাবার বা পানীয়। যতটা সম্ভব হেঁটে অথবা সাইকেল চালিয়ে দৈনন্দিন কাজ সম্পাদন করা।




বাসাবাড়িতে গাছ লাগানো, এবং যতটা সম্ভব ব্যক্তিগত বা সামাজিক উদ্যোগে বনায়ন করতে হবে। শহর বা গ্রাম, রাস্তার পাড়, জমির খালি জায়গাগুলোতে গাছ লাগানো যেতে পারে।


নিজের পরিবেশে বদল এনে, নিজের খাদ্যাভ্যাসে বদল এনে, নানা ধরনের সংরক্ষণের মাধ্যমে পৃথিবীর ধ্বংস হওয়া রোধ করা সম্ভব। পৃথিবীতে পশু চারন, গাছপালা লাগানো ইত্যাদির মাধ্যমেই বাঁচা সম্ভব হতে পারে। সবুজ বাঁচলেই বাঁচবে পৃথিবীর প্রাণীজগত, বাঁচবে মানুষ। একমাত্র মানুষ চাইলে এই অবস্থার বদল ঘটাতে পারে। মানুষই যদি সচেতন হতে শুরু করে আমরা নতুন করে সবুজে বাঁচতে শুরু করব। আসুন আমরা 'সবুজ বাঁচাই, সবুজে বাচিঁ -- এই হোক আমাদের স্লোগান।


#সুব্রতশুভ্র

হেমায়েতপুর, ৬জুন ২০১৯।



Story of Sparrow :: চড়ুই পাখির গল্প :: এশিয়া, ইউরোপ, ভূমধ্যসাগর অঞ্চলের নানা জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা 'passer domestic us' নামের ছোট্ট পাখিটাইতো আমাদের চড়ুই। মানুষের সঙ্গে যার আজীবন সখ্যতা। যেখানেই জনবসতি, সেখানেই চড়ুই। সকালবেলার পাখি হয়ে সবার আগে কুসুমবাগে তারইতো মাতামাতি। শস্যের দানা আর ছোট কীটপতঙ্গ তার প্রিয় খাদ্য। ঐ এক্টুখানি শরীরে কতটুকুই বা আর খেত? ছোটবেলার কথা। মফস্বল থেকে বের হয়ে গ্রামের দিকে হাটলেই মাটির বাড়ি, চালাঘর, চারপাশে কত গাছগাছালি। বাংলার গ্রাম গ্রামান্তরে যত পাখির আনাগোনা শহরতলির পুকুর ঘেরা এক চালাবাড়ির চারপাশে তাদের সবারই দেখা মিলত। কখনো জাম গাছের উঁচু ডালে, খড়ের চালে, সকালের মিঠে রোদে, বিশেষত শীতের সকালে ঘুঘুদের মেলায়, কিংবা, নিকোনো উঠানে ছড়ানো দানার আশেপাশে, অথবা, জানলার পাশে পুকুরের পাড় ঘেঁষে ছোট ছোট ঝোপঝাড়ের আড়ালে। পাখিদের মধ্যে সংখ্যাগুরু ছিল নিঃসন্দেহে চড়ুই। চড়ুই আর শালিখের মিলিত নিনাদই ছিল আমাদের কানে ভোরের প্রথম কন্ঠস্বর। শীতে, গ্রীষ্মে, বর্ষায়। জীবনের অবিচ্ছেদ্য এক অঙ্গ হয়ে যাওয়া ছোট্ট ওই পাখি দুটিকে অজান্তে হয়ত কিছুটা অবহেলাই করতাম। ভালো লাগত তাদের সঙ্ঘবদ্ধতা। যা কিছু বিবাদ নিজেরাই সামলে নিত। বাইরের কোনো বড় পাখি - আজন্ম পরনির্ভর কাকের মত কেউ দাদাগিরি করতে আসলে দেখেছি দল বেঁধে তার প্রতিবাদ হত। নবজাত পাখিদের নরম ঠোঁটে ঠোঁট রেখে মা পাখিরা কেমন করে খাইয়ে দিত তাও দেখেছি। জানতে ইচ্ছে করতো এসব কীর্তি কলাপ কে কবে কেমন করে শিখিয়েছিল তাদের। গাছে গাছে নতুন পাতা এলে ধূলোর ঝড় উড়িয়ে নবান্নের আনন্দে ছোট্ট চড়ুইয়ের নেচে উঠতে দেখেছি। বরষার প্রথম আগমনে জলে ভিজে গা ঝেড়ে উল্লাস, হ্যাঁ, তাও দেখেছি। টের পেতামনা ঠোঁটে করে ছোট ছোট ডালপালা দিয়ে ঘরের ঘুলঘুলিতে কখন যে গড়ে উঠত ওদের অস্থায়ী বাসা। বুঝতাম না রাত্রি জুড়ে ওদের প্রেমালাপের, ঘরকন্নার কথাগুলি। ছোট ছোট আরো কত পাখিইতো ছিল - মুনিয়া, টুনটুনি, টিয়া, বাবুই, দোয়েল, শ্যামা, ইষ্টিকুটুম কত কি! সবাই ওরা সুন্দর ছিল, ছিল আকর্ষণীয়। তবু, কেন জানিনা, টিয়া আর চড়ুইকেই সবচেয়ে বেশি আপন মনে হত। সবসময়, সবজায়গায়, সব শহর কিংবা সব গ্রামে। শুনেছি, বিদেশে শীতের সময় শুকনো গাছের ডাল গুলো যখন বরফে ঠান্ডা হয়ে থাকে তখনো সেই বরফশীতল শাখায় বসে থাকে ছোট্ট চড়ুই অপেক্ষায় থাকে বসন্তের। দেশ-দেশান্তরের হরেক জলবায়ু মানিয়ে নেওয়ার‌ এতই যখন ক্ষমতা ওই ছোট্ট পাখিগুলির তখন ভেবে পাইনা কেন এমন হল যে মাইলের পর মাইল ঘুরেও ওদের আর আগের মতো দেখা পাওয়া যায় না! পরিবেশ প্রকৃতি নিয়ে নিজ আগ্রহের জায়গা থেকেই পড়াশুনো, গভীর পর্যবেক্ষনে জেনেছি মোবাইল ফোন টাওয়ারের ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন অবশ্যই একটি কারণ। এই কারণে ব্রেন টিউমারের আধিক্য যে বেড়ে চলেছে তা আজ তথ্য প্রমাণিত। তথাকথিত উন্নয়নের খেসারত দিতে হারিয়ে যাচ্ছে তাদের বাসা বাঁধার জায়গা। কৃষিকাজে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার আরেকটি অন্যতাম কারণ। হারিয়ে যাচ্ছে কৃষিক্ষেতের জমা জলে জন্ম নেয়া ছোট ছোট কীটপতঙ্গ তথা পাখিদের খাদ্যসামগ্রী। সেদিকে নজর দিতে হবে। রোপন করতে হবে বেশি বেশি করে দেশজ উদ্ভিদ, সীমিত করতে হবে দুহাত অন্তর মোবাইল টাওয়ার গুলো। প্রকৃতি, পশু, পাখি, জল, মাটি, কৃষি - মানুষের বেঁচে থাকার অপরিহার্য রসদ। লাগামহীন তথাকথিত উন্নয়নের নামে এদের কাউকেই বরবাদ হতে দেওয়া ‌ যাবেনা। এদের কোন বিকল্প নেই। এই পথেই আমরাও কি একদিন হারিয়ে যাব? কে জানে? তবু আশা রাখব - নিরুত্তাপ প্রসন্ন আলোয় প্রাণের প্রান্তরে পাখিদের আসা যাওয়া, স্নান, খেলা, গান চলতে থাকবে, উড়তে থাকবে মাটির বুকে হাওয়ার ফেনার মতো ওদের ছেড়ে যাওয়া দুয়েকটা খসে পড়া পালকের কুচি আপন মনে।




বাঁচাও অ্যামাজন - বাঁচাও সুন্দরবন



বেশিদিন নয়, মাত্র ১০ মাস আগে ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বোলসোনারো। অতি দক্ষিনপন্থী ব্রাজিলের এ প্রেসিডেন্টের ঘোষিত নীতিই ছিল আমাজন জঙ্গলের নীচে থাকা তেল খনি থেকে তেল তোলা, যার জন্য আমাজনের বিপুল অরণ্য ধ্বংস করতে হবে। 'চাষ' (সয়াবিন) এর জমি তৈরীর নামেও সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপে মাইলের পর মাইল বনভূমি উজার হয়ে যাচ্ছে, বসছে আকাশচুম্বি কারখানার চুল্লি।


ব্রাজিলের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ স্পেস রিসার্চ (INPE) রিপোর্টে জানাচ্ছে এই দশমাসে প্রায় ৭২,৮০০টি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে ব্রাজিলের আমাজনে, যা পূর্ব বছরের দাবানলের ঘটনার থেকে প্রায় ৮০% বেশি। শুধু গত সপ্তাহেই ব্রাজিলে একসাথে প্রায় ৯০০০ টি স্পটে জঙ্গলে আগুন লাগানো হয়েছে বলে তাদের দাবী। তাদের তোপ সরাসরি বোলসোনারোর আমাজন নিয়ে নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গীর দিকেই।


বিশ্বের দীর্ঘতম এ জঙ্গলটির আয়তন যুক্তরাষ্ট্রের আয়তনের প্রায় অর্ধেক। পৃথিবীতে যতোটুকু “রেইন ফরেষ্ট” বেঁচে বর্তে আছে এখনো, তার ৫৪% ই আছে আমাজন এলাকার আড়াই মিলিয়ন ( ২৫ লক্ষ ) বর্গমাইল জুড়ে। এই বিশাল অরণ্য প্রায় ২.৫ মিলিয়ন কীটপতঙ্গ, প্রায় ১৬ হাজার প্রজাতির গাছ, ২ হাজারের মত পাখি আর স্তন্যপায়ী নিজের মধ্যে ধারণ করে আছে। এছাড়াও ৪০ হাজার প্রজাতির গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ, ৩৭০০ প্রজাতির বিভিন্ন মাছের বিচরণ এখানে। সবচেয়ে উদ্বেগের খবর হলো, গত এক সপ্তাহে সাড়ে ৯ হাজারেরও বেশি আগুন লেগেছে অ্যামাজনে।


বাংলাদেশেরও নিয়েও চিন্তিত হওয়ার আছে আমাদের। তথাকথিত উন্নয়নের নামে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প করে ম্যানগ্রোভ অরণ্য প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংস করার লীলায় মেতে উঠেছে রাষ্ট্র-সরকার। পাহাড়ি জনপদে সেনারা ও তাদেরই ছত্রছায়ায় দেশি-বিদেশি বেনিয়াদের হাতে জঙ্গল তুলে দেওয়ার পথ মসৃন করা হয়েছে, দখল হচ্ছে হাজার হাজার একর পাহাড়ি বন। অন্যদিকে রাশিয়ার সাথে চুক্তিতে রাশান প্রযুক্তির উপরে নির্ভর করে হচ্ছে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। অথচ এই গত কয়েক বছরেই কয়েক মাস পরপর খবর পড়েছি রাশিয়ায় একেকটা দুর্ঘটনার খবর। রাশিয়া এখনো আকারে সারা দুনিয়ার প্রায় ৩ ভাগের ১ ভাগ। জনসংখ্যাও আয়তনের তুলনায় খুব কম। পারমানবিক তেজস্ক্রিয়তায় তাই সেখানে লাখে লাখে বা কোটি মানুষের আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা কম। কিন্তু আমাদের অতি ছোট দেশ, প্রায় ১৮ কোটি মানুষ। এমন ছোটখাট দুর্ঘটনাতেও আমাদের আশেপাশে কয়েকটা জেলায় তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়বে। সেখানে মানুষ তো থাকতে পারবেই না, আগামি কয়েক হাজার বছরেও সেখানকার জমিতে ফসল ফলাতে পারবো না আমরা। সরকারের উচিত এই সিদ্ধান্তটা পুনরায় বিবেচনা করা।


ব্রাজিল তেলের, খনিজের লোভে এরা আমাজন তথা পৃথিবীর ফুসফুস কে জ্বালিয়ে দিচ্ছে, আর এদিকে বাংলাদেশের ফুসফুস সুন্দরবন জ্বলতে খুব বেশি দেরি নেই, সেই রাস্তা ইতিমধ্যেই তৈরি করেছে রাষ্ট্র-সরকার। বেনিয়াবাজি ও ভোগবাজি করে যে ভাবে পৃথিবীর প্রাণ-প্রকৃতিকে ধ্বংস করে লোভ মেটাচ্ছে, ভোগ মেটাচ্ছে, ক্ষমতা ফলাচ্ছে, আর আমরা সাধারন মানুষেরা, পশুপাখি-গাছপালারা তার ফল ভুগে চলেছি, মহাবিলুপ্তির পথে হেঁটে চলেছি। মানুষের অতিরিক্ত লোভের কারনে পৃথিবীর আয়ু দ্রুত কমে যাচ্ছে, পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। পরিবেশ রক্ষায় সারা পৃথিবীর এক হওয়ার এখুনি সময় ।


এভাবে আর কতদিন? বিলুপ্তির মুখোমুখি হচ্ছি আমরা সেটা কি বুঝতে পারছি?





মৌমাছি



আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে মৌমাছির গুরুত্ব যে কত বেশি, তা আমরা হিসাবেই রাখি না। কিন্তু বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে মৌমাছিকেও বাঁচিয়ে রাখতে হবে।


মানুষের খাদ্য সরবরাহে বিশ্বে মৌমাছির গুরুত্ব যে কত, তা আমরা সাধারণ মানুষেরা খোঁজই রাখিনা।


কুর্জ  সিগাট ইউটিউবে একটি ভিডিও ক্লিপ আপলোড করে দেখিয়ে দিয়েছেন, পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য মৌমাছিকে বাঁচিয়ে রাখা কতটা জরুরি!


এই ভিডিও ক্লিপে দেখানো হয়েছে, মূলত প্যারাসাইট (পরজীবী প্রাণী), ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, কীটনাশক এবং মানুষের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে মৌমাছি।


মৌমাছি একগাছ থেকে আরেক গাছে পরাগায়ন কিংবা স্বপরাগায়নে সহায়তা করে। তারা ফুল থেকে রেণু নিয়ে (পায়ে-শরীরে রেণু লেপ্টে থেকে) অন্য ফুলে কিংবা একই ফুলে স্বপরাগায়নে বড় ভূমিকা রাখে। এতে করে নতুন গাছগাছালির জন্ম হয় এবং বৃদ্ধি পেয়ে পৃথিবী নামে গ্রহটির বায়ুমণ্ডলের ভারসাম্য রক্ষা হয়। 

এ ছাড়া মৌমাছির কলোনি (উপনিবেশ-বাসস্থান) থেকে প্রাপ্ত মধু মানুষের জন্য মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। মধু অনেক রোগের হাত থেকে বাঁচায় মানুষকে।


এদিকে, গবেষকরা বলছেন, মৌমাছি ধীরে ধীরে লোপ পেতে শুরু করেছে। এর অন্যতম একটি কারণ কলোনি তৈরির সুযোগ পাচ্ছে না মৌমাছি। কলোনি ধ্বংস হয়ে গেলে মৌমাছির মৃত্যুও হতে পারে। এতে করে মৌমাছির সংখ্যা দিন দিন কমে যেতে পারে।


এ ছাড়া মৌমাছির শরীরে প্যারাসাইট মাইট (উঁকুন জাতীয় পরজীবী প্রাণী), ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক মৌমাছির শরীরে বাসা বাঁধে।  এদের কারণেও মৌমাছির মৃত্যু হয়। 


আরো একটি কারণে মৌমাছির মৃত্যু হয়। তাহলো কীটনাশক ব্যবহারে। গাছে, ফলে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মৌমাছি মানুষের চোখের অন্তরালে মারা যাচ্ছে, মানুষ যা তাদের বোধে আনছে না।  


২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের কৃষি দফতরের সহযোগিতায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় মৌমাছির ওপর পরিসংখ্যান চালায়। এতে দেখা যায়, গত নয় বছর ধরে ৪২ শতাংশ মৌমাছি তাদের বাসস্থান (কলোনি-উপনিবেশ) হারিয়েছে।


পরিসংখ্যান জানায়, সাধারণত গ্রীষ্মকালে মৌমাছি বেশি করে তার কলোনি হারায়। 


এ বিষয়ে ডিসকভারি চ্যানেল জানায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাৎসরিক গবেষণাতে জানা যায়, ২০০৭ সালে ৩২ শতাংশ মৌমাছি তাদের কলোনি হারায়। এরপর ২০০৮ সালে ৩৬ শতাংশ মৌমাছি তাদের কলোনি হারায়। ২০০৯ সালে এ হার ২৯ শতাংশ এবং ২০১৫ সালের এপ্রিলে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ শতাংশে।


গবেষকরা মনে করছেন, ধীরে ধীরে মৌমাছি লুপ্ত হওয়ার বিষয়টি কৃষি-প্রতিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াছে।


মৌমাছির উপনিবেশ হারানোর হার বরং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশগুলোতেই বেশি। মূলত, মধু আহরণের জন্য কলোনি থেকে বিতাড়ন মৌমাছির অস্তিত্বের জন্য হুমকি স্বরূপ দাঁড়িয়েছে। কারণ, আরেকটি কলোনি তৈরির আগেই অনেক মৌমাছির মৃত্যু হয়।


এ ছাড়া ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী প্রাণীর কারণেও অনেক মৌমাছির প্রাণহানি ঘটে। সেই সঙ্গে কীটনাশক তো আছেই।


গবেষকরা বলছেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়, গাছগাছালির বংশবৃদ্ধি এবং মানুষের খাদ্য সরবরাহ ঠিক রাখতে মৌমাছিকে লুপ্ত হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে হবে। তা না হলে মৌমাছি না বাঁচলে মানুষের অস্তিত্বও এই গ্রহে বিপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা আছে।





 
 
 

Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating
bottom of page