top of page
Search

Unokabyo :: Poetries (Bengali)

  • Subrata Shuvro
  • Jun 26, 2022
  • 8 min read

Updated: Dec 26, 2023

:: ঊনকাব্য ::

কথা ছিলো কুয়াশা ভেদ করে আলো ঝলমলে

জানলার কাছে অনবরত ডেকে যাওয়া

এক পাখির মতন সকাল;

তুমি ও আমি এবং আমাদের অন্তর্বর্তিকালীন কেউ নয়;

আমাদের দেখা হওয়ার কথা ছিল।

কথা ছিলো সবুজ ফড়িং এর বেশে

ঝিরিপথ পেরিয়ে শিশিরজলে ভেজা

ঘাস মাড়িয়ে তোমার আমার

বেসামাল হারিয়ে যাওয়া

কালো পাহাড় পানছি’র অরণ্যে পাদদেশে।



শীতের নির্জন পর্দা সরিয়ে

গৃহস্থ্য-গন্ধ মনে আসে কখনোসখনো,

ভালোবাসা আমারও আছে

তবে, অতীন্দ্রিয় প্রেমবোধে

হাতেগড়া রুটির মতন

ফুলে ফুলে উঠে উনুনের উপর।

#অকবিতা




চলো শীত হয়ে জড়িয়ে থাকি

গ্রীষ্ম চাইবো না জীবনে আর,

প্রহর গড়িয়ে আসবে প্রহর

তুমি আমি, আমি তুমি

গড়বো বসত তোমার ভেতর

আমার ভেতর তুমি আমি, আমি তুমি।

.

.

#অকবিতা ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩০ | ৮ ডিসেম্বর ২০২৩

ছবি: বাশুরিয়া, বর্ণি বাওড়, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।


ঘন কালো মেঘে ঢেকেছিল সকালটা, বৃষ্টি নামবে যখন তখন!

গাড়ীর অপেক্ষায় ফুটপাথে জমা জলে আকাশ দেখতে থাকি আমি, আর তুমি সেই জলে ঢেউ তুলে ঢেকে দাও বললে, "আকাশ হও, আকাশ!"




একদিন আমি পাখি হবো,

মনের গহীনে জমানো

তোমাকে না লিখা চিঠির অব্যক্ত কথাগুলোকে সাথে করে

মেঘের ডানায় ছড়িয়ে দিবো

মেঘে মেঘে অব্যক্ত সে কথামালা,

ডাকপিয়ন মেঘেরা বৃষ্টি হয়ে

ঝরবে তোমার আঙ্গিনায়. ..

অতপর আমি সূর্য হবো ।

.. চাষাড়া, নারায়ণগঞ্জ।




আমি অবাক হবো

পাখিরা যদি জানতে পারে

আরও ভাল কিছু আছে

পাখি হওয়ার চেয়েও,

যেভাবে

মানুষ জানে

আরও ভাল কিছু আছে

মানুষ হওয়ার চেয়ে,

যেভাবে

আমি জানি

আরেকটু ভালো কিছু আছে

আমি হওয়ার চেয়েও?


আমি

চাই

পাখি হতে,

কিন্তু পাখি হয়ে আমি

জানতে চাই না

আরও ভাল কিছু আছে কিনা।





:: সময় হলে না হয় ! ::


সময় হলে তোমার সাথে

যাবতীয় হিসেব-নিকেষ

করবো জীবন !


বাড়ির উঠোন থেকে শুরু হয়ে

সীমান্তের কাঁটাতার ঘেঁষে লড়াইয়ের

অনিবার্যতায় বিধ্বস্ত মানুষ।

চাঁদের আলোয় প্রেয়সীর মুখ

দেখার হৃদয় বৃত্তি কোথায়

এই বীভৎস সময়কালে !


অভাবের দাপট আজ হৃদয়ে

বিরাজ করে তুমি নেই তুমি নেই রবে,

আকাশের মাটি নেই, উদরের

খাদ্য নেই, মানুষের শান্তি নেই।

এসো নিশ্চিত বেঁচে থাকা টুকু

শুধু খুঁজে নিয়ে আসি

স্বপ্নেরা না হয় দূরেই থাক ।





কোন এক সবুজ পাহাড়ের পাদদেশে

সবুজ প্রান্তরে নদীর বাঁকে অথবা

বালুচরে শুয়ে শুনেছো কি বিরামহীন বয়ে চলা

জলের কলকলানি শব্দমালা?

কোজাগরী পূর্ণিমায় রাতভর কথোপকথনে ভোর হয়েছিলো সেদিন,

চোখের পাতা জোড়া জড়াতেই

কানে বেজে ওঠে

হঠাৎ জলেদের দুর্বোধ্য সে সব শব্দ,

"অসত্য ছিল দীর্ঘ গত রাত

তেমন অসত্য হবে অনন্ত আগামী;

অনিত্য জগতের এইসবের নেই স্বতন্ত্র সত্তা।

আকাশের চিবুকে রাতের রঙ এভাবেই

এসে পড়ে রোজ, মহাকালের গহব্বরে ম্লান হয় আলোদের যত হাসি,

নগরের নাগরিক ছুটে চলে অগস্ত্য, কালহীন পথে।

মুক্ত কর হে, তোমাকে;

মুক্ত হও...."





বসন্ত এলেই, বাতাসে ধুলো-বালি নয়,

কবিতা ভেসে বেড়াবে,

তরুনীরা ফুল নয়, খোঁপায় গুজবে কবিতা,

রঙ- বেরঙ নানান কবিতা।

সেদিন কবির উপমার চাঁদরে

আমিও কবিতা হবো, তোমার খোঁপার কবিতা।




আমরা দেখেছি যুদ্ধ কখনোই সমাধান নয়,

যুদ্ধ কেবলই শাসকদের ফায়দা লোটার হাতিয়ার।

পৃথিবীর ইতিহাসে দেখা গেছে,

নড়বড়ে রাষ্ট্র বা ক্ষমতা হারানোর ভয়ে

শাসকরা কখনোবা যুদ্ধকে নিজেদের

প্রয়োজনেই মহৎ বানায়।

যুদ্ধ যদি করতেই হবে--

তবে সে যুদ্ধ হোক ক্ষুধার বিরুদ্ধে, চিন্তার দৈন্যের বিরুদ্ধে

যুদ্ধ হোক মতান্ধতার বিরুদ্ধে, মৌলবাদের বিরুদ্ধে

যুদ্ধ হোক ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থের বিরুদ্ধে

জাতপাত, ছোঁয়াছুঁয়ির বিরুদ্ধে, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে হোক সে যুদ্ধ

যুদ্ধ হোক অন্যায় আধিপত্যের বিরুদ্ধে, দলবাজির বিরুদ্ধে

যুদ্ধ হোক যাবতীয় নীচতা, ইতরতা, ধর্মান্ধতা, সহানুভূতিহীনতা, অসৌজন্যের বিরুদ্ধে।




নিঃসঙ্গতাকে ছুয়ে যায়

জলেরা মাঝে মাঝে


তখন তৃপ্তির ঢেকুরে

বুঝে আসে চোখ,


আমাদের ছুয়ে থাকা হোক

আদুরে এমন

বৃষ্টি ঝরা জলে,

প্রকৃতি যেমন নতুন করে সাজে।



মুনাফা লোভী পুঁজিবাদের প্রতি নতজানু

হয়ে আর কতকাল বনসাই হয়ে থাকবে হে সভ্যতা ?

যে ক্ষমতা কেবলই খুঁজে নেয়

বিবেকহীন মেধাহীন জড়পদার্থের গুন সম্পন্ন মানুষ

যাদের আছে লোক দেখানো দেশপ্রেম, 

আছে হাততালি কুড়ানোর মুখস্ত বিদ্যা

গরম বক্তৃতা দেবার প্রশিক্ষিত দক্ষতা।



বনসাই হয়ে থাকা এ সভ্যতায়

ক্ষমতা কেবল খুঁজে নেয়

বিবেকহীন মেধাহীন জড়পদার্থের গুন সম্পন্ন মানুষ

যাদের আছে লোক দেখানো দেশপ্রেম, 

আছে হাততালি কুড়ানোর মুখস্ত বিদ্যা

গরম বক্তৃতা দেবার প্রশিক্ষিত দক্ষতা



ইদানিং পৃথিবীকে আলোকিত করতে অপারগ

হয়ে পড়া সুর্য হিমরোদ থেকে

জলের গভীরে আরো জলে

ঢুকে পড়েছে বন্ধু হিম সকাল,

চলো সুর্যের তেজ ফিরিয়ে আনি ....




মেঘের মতো হঠাৎ চাঁদের বুকে এসে

গভীর রাতে —

একবার পৃথিবীর পানে

চেয়ে দেখি, আবার মেঘের মতো

চুপে চুপে ভেসে

চলে যাই এক ক্ষীণ বাতাসের

দুর্বল আহ্বানে

কোন দিক পথ বেয়ে!

— আমাদের কেউ কি তা জানে।




এমন ঈশ্বরের প্রয়োজন আমার নেই,

যিনি ক্ষুধার্থ শিশুকে খাদ্যের যোগান দেন না,

কিন্তু পরজীবনে স্বর্গের প্রতিশ্রুতি দেন।



তুমি ও তোমার

এ দুটির কোনো প্রতিশব্দ আমার নিকট নেই,

তুমি ব্যতিত পৃথিবী গড়ার অভ্যাসও আমার নেই

আমি কতদূর যে হেঁটেছি তোমার পথ-ধূলি চেয়ে!

জানি, খোঁজ পাবো নাহ,

তবুও পৃথিবীর অবাধ্য পথিক হওয়া আমাদের যে চরম অভ্যাস!



সবার জীবন কবিতা হলে

শ্রেনী বৈষম্য ঘুচবে জানি ,

প্রেম, জীবন ও মৃত্যু-ভাবনা

এই তিনে সব একই সারিতে ।



:: শিরোনামহীনা ::


এ দেশ, এ শহরের ভরা যৌবন

নগ্ন অস্তিত্বের ঘেষাঘেষিতে

বুদ্ধিজীবি আর দেশপ্রেমিকদের

মাথায় উকুন সারবস্তু,

এই ভীষন নগ্নতায়

জমার ঘরে চক্রবৃদ্ধি

পকেটে লাভের কড়ি।




:: শিরোনামহীনা ::


বড় বিপন্ন আজ হৃদয়

মাধবীলতার ঝোঁপ ভেঙে যায়

বেপরোয়া চাঁদ আকাশে গড়ায়

বুকের ভিতর গেরস্থালি

বৃথায় বুঝি আগুন জ্বালি

তবু গর্জে উঠি মরিয়া স্বভাবে

হুঁশিয়ারি দেয় সময় !




নিখোঁজ


শুভ্র, এখন তুমি

আগুনে পোড়ো 

কান্নায় ভাসো 

আরাম না স্বস্তি, কি 

বোধে আছ?

আজ তুমি ঋন করে

ভালোবাসা কেনো।


এতই দেনা তোমার 

সমাজে, মগজ লজ্জা

বিবেক সবই তো

বন্ধক গেছে শুনেছি।

তুমি হেরে গেছ শুভ্র।


আর আমি শুধু  

মানুষ খুঁজে ফিরি,

শুভ্র, তোমার 

ঈশ্বরত্ব যেদিন যাবে

সেদিনের অপেক্ষায়,

আমার সময় বয়ে যায়।



:: শিরোনামহীনা ::


তোমার সাথে দূরের খেলা

সকাল বেলা সাঁঝের বেলা 

অগোচরে চলে যাওয়া, 

নিত্য দিনের সময় বাওয়া 

হাতড়ে বেড়াই অন্ধকারে

তোমার আলো কোথায় পরে।  

নিজের ছায়া সহসা একা 

বুকে তোমার পাই না দেখা,

ঈষৎ কালো হাহাকারে 

নেমেছে আঁধার সাঁঝের ঘাড়ে

ছদ্মবেশী মানুষ যত

পথে নামে যে যার মত

ভ্রষ্ট-এ পৃথিবীতে।




পথচলা

প্রকৃতির গভীর বিষন্নতার মেঘ বুকে নিয়ে মেঘরা ভেঙ্গে ভেঙ্গে বৃষ্টি হয়ে নেমে আসে সময় অসময়ে, ছায়ার সাথে সাথে রাজপথে নিঃসঙ্গ পথচলায় শুনেছি অমূল্য এ জীবন নাকি একবারই পাওয়া যায় মর্তে অস্তিত্বকে দেখেছি বিলীন হতে বহুবার কালো মেঘের ভীড়ে অব্যক্ত শব্দগুলো পাড়ি জমিয়েছে কাগজের বুকে।



দেখা হবে


আবার কোনো এক কুয়াশাচ্ছন্ন

ভোর বেলায়

সেদিন আমাদের কথা হবে, তবে অন্য মাত্রায় কিছু

পূর্বের চেয়ে ভিন্ন কিছু-

এক হাতে জ্বালাবো নিকোটিন যুক্ত ধুম্রশালাকা

তোমার ঠোঁটের চুম্বন দেখবো!

প্রাক্তন নামে কতকাল চিঠি উড়ায়নি,

তোমায় ভুলবশত বলে বসবো।

তুমি বিরক্ত হবে আর কপাল কুচকাবে - তারপর

অন্যপানে দৃষ্টি দিবে!

তোমার ধৈর্য-সহ্য নিয়ে প্রশ্নের ঝুড়ি ঝুলাবো 

আমি হাহাহাহা করে হেসে উঠবো, আর মেজাজ নিয়ে প্রশ্ন বুনবো।

তারপর আমি তোমাকে হয়ত বলিয়েই ছাড়বো-

"তুমি বদলে গেছো অনেকটা বদলে গেছো !!"

- কেমন হতো বলো?




নগরচেতনা নিয়ে এসো না

সবুজে বোনা শান্তিনিকেতনে,

এককালে সাঁওতাল বাঁচতো

সাপের কামড় ওঝার ফুঁকে।

দারিদ্রসীমায় ছিলো তাদের বাস

ছিলো না কোনো পরচা দলিল প্রমান পত্র,

জমার ঘরে পরতো না তাদের পা,

খরচ গোটা জীবনখানায়, তবু ছিলো শান্তি এই সবুজ কাননে।

সবুজ বৃক্ষরাজি সদম্ভে ঘোষণায়

পথ-ঘাট, মাঠ-ময়দানে ফুলপাতায় আল্পনা এঁকে রাখতো,

সময়ের ব্যবধানে ভোগ আর লোভের দাবানলে

প্রকৃতির সাথে একপাক্ষিক সংঘর্ষে

প্রকৃতি ও প্রাকৃতজনের উপর নেমে এসেছে

অপমান, নিপীড়ন আর বর্বরতা,

শতশত কংক্রিটের জঞ্জাল,

অপেক্ষায় নির্মানমুখি আরও শত শত উজান-ভাটির

স্বার্থপর কংক্রিটের ঘেরাটোপে শুষ্ক আজ

কোপাইয়ের বুক- পিপাসার্ত --

` 'এসো নীপবনে, ছায়াবীথি তলে

` এসো কর স্নান, নবধারা জলে'

কাব্যসুধায় ঝরাবে কলম,

বাঁচাবে তাদের সে কবি কোথায়?

রবি ঠাকুর ফিরে এসো, দেখে যাও-

শান্তিনিকেতনে আজ শান্তি নেই!


সুব্রত শুভ্র

১৯ চৈত্র, হিহিরিপিপিরি, তালতোর, শান্তিনিকেতন


#hihiripipiridairy #হিহিরিপিপিরিডায়েরি #Shantiniketan




মহাজাগতিক ভ্রমণে জেনেছি, আমি ভীষণ একা

আমরা প্রত্যেকেই ভীষণ একা, পরিভ্রমনে এও জেনেছি

আমার ভেতর আমি একা নই; জীব-নির্জীব আরো অগণিত আমি

আমার ভেতর বাস করে, আমরা প্রত্যেকেই

প্রত্যেকের মাঝে বাস করি, সেখানে অনেক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আমিত্ব।

.

#সুব্রতশুভ্র #অকবিতা

২৪ পৌষ ১৪২৫ || জানুয়ারি ৭, ২০১৯

লালমাটিয়া, ঢাকা।



দহন (২) :: অরিত্রি অধিকারী ও মানবিক নিপীড়িত সকল শিশু-কিশোর ::


কেমন আছো শুভ্র?

অরিত্রিরা চারদিকে আজ সব ডুকরে মরে নিন্দা অপমানে

তোমাদের গড়ে তোলা সংবেদনহীন সমাজ

ও প্রেমহীন অন্তঃসারশূন্য প্রতিযোগিতার ঘোড়দৌড়ে।

ভালোবাসাহীনতায় তোমরা এক ভয়ংকর পৃথিবী

ও সমাজে এমনই এক ইমারত গড়ে তুলেছো যে,

সম্ভ্রম খোয়ানো বিবেকের লাশ দেখে

ক্ষমতা-লোভ আর লাভ-লোকসানের দ্বন্ধে

কাকেরাও করে না আজকাল কোন প্রতিবাদ।

তোমাদের গড়ে তোলা

বাজারি শিক্ষা-সমাজ ব্যবস্থায় ভালোবাসাহীনতায়

উচ্চাকাঙ্ক্ষার উসকানিতে চলছে অবিশ্রান্ত এক সংঘাত

তোমাদের সভ্যতায় মহাকালের অসভ্যতার

গোপন এক অসুখে।


ক্লান্ত তুমি? ক্লান্ত এসেছে চোখে মনে?

বাকশূন্য আমরা দেওয়ালের গর্জন শুনি

চোখ ডুবলো জলে আর স্বপ্নরা হলো বানভাসি।

আচ্ছা শুভ্র, ঠিক কতোটা দহন হলে

বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে গুঁড়িয়ে যায়?


০৪ নভেম্বর ২০১৮, লালমাটিয়া।


দহন


কেমন আছো শুভ্র?

ক্লান্তি নেই শান্তি নেই মনে?

চোখের কোলে স্বপ্নের ঘরবাড়ি,

চোখ ডুবলো জলে, স্বপ্ন হল বানভাসি ।

বাকশূন্য আমি দেওয়ালের গর্জন শুনি 

আর তুমি আমার ভয়ে 

এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছিটকে গেলে।


পশুত্বের জোয়ারে মনুষত্ব বড় অসহায় আজ

সম্ভ্রম খোয়ানো লাশ দেখে 

কাকেরা প্রতিবাদ করে।

তোমার ও তো প্রতিবাদ করার কথা ছিল শুভ্র ! 

তুমি কি আজ আর মানুষ নেই ?

খিদে লাগা চাঁদ আকাশে বড় উজ্জ্বল,

ঠিক যেন ঐ মানুষগুলোর ক্ষিধের মত

আচ্ছা, ঠিক কতোটা দহন হলে

বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে গুঁড়িয়ে যায় শুভ্র?





এ শহরটা বড্ড ছেলেমানুষ 

দিনরাত ডিজেল পোড়া গন্ধে

পড়ন্ত বিকেলের সুখটানে, সন্ধ্যের উষ্ণতা খোঁজে  ক্ষতবিক্ষত স্বপ্ন কাব্যেরা।

অবশিষ্ট জমাট বাঁধা স্বপ্নদের ধুয়ে যেতে দেখেছি একটু একটু করে

ছোট-বড় রাস্তার মোড়ে ওলিতে গলিতে 

সুখ খুঁজতে দেখেছি খ্যাপা বাউলের মতো।



পড়ন্ত বিকেলের সোনালী আলোয়

প্রেম খুঁজি শুকনো ডালে,

সন্ধ্যে নামবে একটু পরেই

সুদূরের নির্জনতায় হারাবার তরে

হারিয়ে যাবো মহাজাগতিক অন্ধকারের হাত ধরে।


হেমন্ত, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ২৬ নভেম্বর ২০১৮

হেমায়েতপুর।



ফুল কুড়ানি? তুমি প্রতিটি ফুল ভালোবাসার স্পর্শে ভরে রেখো তোমার ঝাঁপি

মনের মত শুভ্র কাঠগোলাপদের কুড়িয়ে

সাজিয়ে নিয়ো তোমার ঘন নীল আঁচলের মাঝে।

অতঃপর ফুল কুড়ানি বললাম,

''উপভোগ করো তবে অন্তরের সমস্ত দৃষ্টি দিয়ে অপরুপ এই সৌর্ন্দয্যকে।"

সুব্রতশুভ্র

অকবিতা

১১ অক্টোবর, ২০১৮

পূর্বহাটি





প্রিয় ফুল,


শিশিরে ভিজিয়ে রেখো

আমার যত ভোর....

নতমুখী দৃষ্টির ভীড়ে

আলোর কতো দেখো শোর -

শামুকের গতিতে স্থির রেখো স্পর্শের ডোর।


ইতি

মধু





স্বপ্ন কাব্য


নতুন পাতারা উঁকি দেয়,

গাছের ডালে ডালে শাখায় শাখায়

নতুন পাতাদের কাব্য।


আজকাল বা সেকেলেও কেউ লিখেনি

ঝরা পাতাদের নিঃশব্দ পতনের কাব্য,

মিশে যায় ওরা ধুলোদের সাথে

অলিখিত কাব্যরা হারিয়ে যায় কালের অতলে।

ওই ঝরে পড়া পাতারা জানে

জীবন যেমন রাতদিন সীমাহীন

তোমারও কি ঝরে পড়ে স্বপ্ন প্রতিদিন?



মৃত

আমি জেনেছি, তোমরা বিদ্রোহী হতে পারোনি বলে তোমাদের অবলুপ্তির কথা, তোমাদের দুর্বলচিত্তে অনুভূতির উত্থানের উদ্দমতা, আমি জেনে গিয়েছি দূষিত হৃৎপিন্ডে নিরবঘাতী রক্তক্ষরণের তীব্রতায় তোমারা হারিয়েছো জীবনপথে জিন্দা মুর্দা মিছিলে, আমি জেনেছি তোমরা পুড়ছো বাকসংরুদ্ধ দৃষ্টির অন্তরালে অজানায় জানতে পেরেছি আমি তোমাদের নীরব বিলীন হবার দুর্বোধ্য রহস্য জাত, ধর্ম, দ্বন্দ্ব, বৈষম্যে দিকভ্রষ্ট তোমরা পারস্পরিক রোষানলের তীব্রতায় ঝলসানো লাশ। জানুয়ারি ২৭, ২০১৭




বন্দি

একলা সবাই মানুষের ভীড়ে হাতের মধ্যে আগুন ধর্ম ঢাকা ছাদের তলায় আগুনে পোড়ে ফাগুন। অন্ধ মানুষ, অন্ধগলি আকাশ জুড়ে জ্যোৎস্না জ্যোৎস্না ঝড়ুক হৃদয় জুড়ে আগুন ধরতে যাসনা। প্রতিটি পথের মাপ শোষক করে নির্ধারন কতটা হাঁটবে তুমি আজ কতটা বাঁচবে মরে। পঙ্গু-কবির হাত খালি তাই কলমের পেটে রক্ত মৌলবাদ আর শোষকের অধিকারে আজ জীবনের নাম বৃত্ত। #সুব্রতশুভ্র ১৮/০৪/২০১৬ হেমায়েতপুর, ঢাকা।




সবুজ বুনি

প্রেমিক সন্ধ্যা তারা বন্ধু... একটু দাঁ ড়া! এই শহরে বুনে দে আজ সবুজ গাছের চারা ।





সাম্রাজ্য নয়, চাই এমন

একটি কবিতা, যা

চরম যুদ্ধবাজ বা এ কে ফর্টি সেভেনের

বিপরীতে স্বচ্ছন্দে হেঁটে যেতে পারবে

এক থোকা শিউলী বা বকুল হাতে!

যার বুকে ইতিহাসের সকল যুদ্ধের

দগদগে ঘা এর দাগ

মানুষকে সতর্ক করবে!


চাই এমন একটি কবিতা

যা দেশলাইয়ের বুকে

লুকিয়ে থাকা বারুদের

মত জ্বলবে ভালোবাসার আহবান নিয়ে।

পাথরের নীচে সাদা ঘাসের

রুগ্ন জীবন বয়ে

বেড়ায় সর্বপ্রাণ ও মানুষ, আর খোঁজে

রাষ্ট্র, সমাজ ও বৈশ্বিক ব্যবস্থায় নিষিদ্ধ

সেই কবিতা।

#সুব্রতশুভ্র #কবিতা

#হেমায়েতপুর

২৭.০২.২০১৭




আমার দেশের

রোদে পোড়া ঘাম ঝরানো মানুষগুলো ভালো থাক!

সারাদিনের ক্লান্তি শেষে তাঁদের প্রশান্তির ঘুম থাক যথাযথ!

মুখে থাক প্রশান্তির চিরচেনা হাসি!


নিঃশ্বাস যখন ছাড়বে বাতাসে,

কার্বনডাই অক্সাইড নয়,

তোমার নিঃশ্বাসের সাথে বেড়িয়ে আসবো আমার মত একেকটা আমি

এই দুষিত নগরীর নাগরিক কোলাহলে

পরক্ষনের মিলিয়ে যাবো

আবার পাকাবো ধোঁয়াটে কুন্ডলী

আরেকটা আমি তোমার ভেতর ঢুকবো বলে,

গড়বো বসত তোমার ভেতর

প্রহর গড়িয়ে প্রহর আসবে

পিরিতি জ্বালায় জ্বালাবো তোমায়

তোমার আকাশের শেষ তারার মতো।


#সুব্রতশুভ্র #অকবিতা

০৮. ১২. ২০১৬

হেমায়েতপুর, সাভার।



স্বপ্নের বীজ

কিছু অকবিতা, কিছু ছোট গল্প

কয়েক টুকরো কাগজ; একটি কলম

ও কিছু বিচ্ছিন্ন টুকরো স্বপ্নেরা

রাখা একটি কাঠের বাক্সে

একমাত্র সম্পদ।

চল তোকে একটি টুকরো স্বপ্ন বলি,

শুনবি?

- হ্যাঁ, শুনবো.. বল তোর স্বপ্নের কথা (দ্বিতীয় কণ্ঠস্বর)


খুব গহীন রাতে

অথবা শেষ রাত, ভোর সকালে

তখন আমি সমুদ্র সৈকত বসে

দিগন্ত স্পর্শ করি

দিগন্ত রেখায় স্বপ্ন দেখি

যেখানে জাতিগত জাতিগত দ্বন্দের নামে, 

ধর্মের নামে, লিঙ্গ বৈপরীত্যের নামে

হবে না কোনও বৈষম্য-যুদ্ধ-রক্তপাত

অস্ত্র-মিসাইল কারখানাগুলো হয়ে উঠবে শিশুদের নন্দন কানন।


-তারপর? (দ্বিতীয় কণ্ঠস্বর)

-‎যেখানে স্বপ্ন গুলো শুধু স্বপ্ন থাকবেনা।


যে সমাজে ঘরেবাইরে বা চলতি পথে নারী বলে

লোলুপ দৃষ্টি দেবে না কেউ, হবে না কোনও মানসিক ধর্ষণ

সেখানে লোভের নেশায় প্রাণপ্রকৃতি ধ্বংসে 

সর্বগ্রাসীর চরিত্রের লাগাম টানবে সবাই 

যেখানে প্রকৃতি প্রেম আর মানবতাই হবে একমাত্র ধর্ম।

- তারপর? (দ্বিতীয় কণ্ঠস্বর)

সেখানে পৃথিবী নামক দেশটির নাগরিক হবে

তুই আমি প্রতিটি সর্বপ্রাণ, 

কেউ বাঁধবে না আমাদের কাঁটাতার আর সীমান্তরেখায় ;

যেখানে শোষণমুক্ত রাজনীতি,

বিবেক, দর্শন ও প্রেম হবে

সমাজ, রাজনীতির চালিকা শক্তি।

-তারপর? (দ্বিতীয় কণ্ঠস্বর)

-যেখানে এই স্বপ্নগুলো শুধু স্বপ্ন হয়ে

থাকবেনা আর, নেমে আসবে এ ধরিত্রীতেতে।


এসো তবে, চলো স্বপ্নের বীজ ছড়িয়ে দিই। (যৌথ কণ্ঠস্বর) March 16, 2016



মানুষ বাঁচে... প্রকৃতি মানুষকে বাঁচতে শিখিয়েছে... নিজের মত করে... সব ঘাত প্রতিঘাত উপেক্ষা করে... বাঁচে... কিন্তু আমরা কি নিজেদেরকে প্রকৃতির কাছে আর সমর্পিত করতে পেরেছি? কখনও সন্ধ্যেবেলা আকাশের ছোট্ট চাঁদটার দিকে তাকিয়ে দেখেছি? আকাশ ভরা ঝিকমিকি তারার মালার দিকে তাকিয়ে থেকেছি? বা ওই সমুদ্রে আছাড় খাওয়া ঢেউ-এর আওয়াজ কান পেতে শুনেছি।? আর সন্ধ্যাবেলা লালচে নরম সূর্যটা? দেখেছি? প্রকৃতি আমাদের কত দিয়েছে... তাইনা? আর আমরা স্বার্থপরের মত একে একে ধ্বংস করে চলেছি প্রকৃতিকে... এও জানিনা আমরা নিজেরা ক্ষয়ে যাচ্ছি... 

প্রকৃতির সাথে মানুষের প্রেম আদিম... নিবিড়... মৃত্যুর পরও আমরা প্রকৃতিতেই বিলীন হই... সেখানে আর কিচ্ছু নেই... শুধু প্রকৃতি।






মানস, যন্ত্র সভ্যতা


এক প্রাথমিক শিক্ষিকা সেদিন ক্লাসে ছাত্রদের একটি রচনা লিখতে দিলেন। বিষয় - ভাবো, সান্টা ক্লস তোমার সামনে দাঁড়িয়ে। যা চাইবে, পাবে। কি চাইবে? কেন? লেখা হলে খাতাগুলি নিয়ে ঘরে ফিরে সেগুলো দেখতে বসে খানিক আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন তিনি। এমন সময় তার স্বামী ঘরে ঢুকলেন। তাঁর চোখে জল দেখে কারণ জানতে চাইলে ভদ্রমহিলা তাঁর হাতে একটি খাতা তুলে দেন। 'পড়ে দেখ, আমার এক ছাত্রের লেখা।' রচনাটি ছিল এরকম - "ডিয়ার সান্টা,আজ আমার একটি বিশেষ চাওয়া আছে তোমার কাছে। আন্তরিক ভাবে চাই। না বোলোনা, প্লীজ। দয়া করে আমাকে একটা টিভিতে রুপান্তরিত করো। আমি যেন ঘরের টিভির মত একটা বিশেষ স্থান পাই। পরিবারের সবাই যেন আমায় ঘিরে থাকে। ওঁরা যেন আমার কথা বিনা বাধায়, বিনা প্রশ্নে মন দিয়ে শোনে। টিভির মতই আমি যেন সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হই। বন্ধ থাকা অবস্হায় টিভি যতটা আদর যত্ন পায়, আমাকেও যেন ততটাই আদর যত্ন করাহয়। ক্লান্ত অফিসফেরত বাবা ঘরে ফিরে যেন আমাকেই সঙ্গ দেয়। কষ্টে, অস্থিরতায় মা যেন অবহেলা না করে আমার কাছেই এসে বসে। আমার কাছে বসার জন্য ভাইবোনেরা যেন রেষারেষি করে। যখনতখন সব কিছু ফেলে রেখে পরিবারের লোকজন যেন আমার সাথেই সময় কাটায়। আর হ্যাঁ, আমি যেন ওদেরকে খুশী করতে পারি, আনন্দ দিতে পারি। টিভি হয়ে বাঁচবার আমার এই সামান্য ইচ্ছেটুকু তুমি পূর্ণ করো সান্টা, প্লীজ। আর আনৃমি কিছুই চাই না। কোন গিফ্ট না, কোন চকলেট না, কোন খেলনাও না। নিরাশ কোরোনা প্লীজ।"

এই পর্যন্ত পড়েই ওনার স্বামী বলে ওঠেন - "ওহ্ গড! কি অভাগা ছেলেটি! আর, না জানি, কেমন অপদার্থ, ভয়ঙ্কর ওর মা-বাবা!" শুনে শিক্ষিকাটি চোখ তুলে তাকালেন তাঁর দিকে। ধীরে... অস্ফুটে জানালেন - "ডিয়ার, রচনাটি যার, সে আমাদেরই সন্তান, unfortunately!"

বন্ধুরা, সময়ের সঙ্গে তাল দিয়ে সবার অলক্ষ্যে, অগোচরে আমরা টিভি, মোবাইল,আইপড প্রভৃতি যন্ত্রের ক্রীতদাস হয়ে উঠছি। তাতে কিছু আসে যায় কিনা সেটা ভেবে দেখার সময় কি আসেনি আজো?সময় কি হয়নি ভেবে দেখার যে এই যান্ত্রিক সভ্যতার যূপকাষ্ঠে কি, কত মূল্য দিতে হচ্ছে আমাদের? প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে ? আসুন একটু ভাবা যাক। অন্তত আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাতিরে ।

 
 
 

Recent Posts

See All
Vabnar Jomin :: Thoughts (Bengali)

আত্মহত্যা কোন অবস্থায় ঠিক বা বেঠিক, সেটা দীর্ঘ বিতর্ক। কিন্তু আত্মহত্যা করতে যে শুধু সাহস না, দুঃসাহস লাগে, এতে কোন সন্দেহ নেই। সব সময়...

 
 
 

Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating
bottom of page