top of page
Search

Vabnar Jomin :: Thoughts (Bengali)

  • Subrata Shuvro
  • Jun 26, 2022
  • 13 min read

Updated: Jul 6, 2022





আত্মহত্যা কোন অবস্থায় ঠিক বা বেঠিক, সেটা দীর্ঘ বিতর্ক। কিন্তু আত্মহত্যা করতে যে শুধু সাহস না, দুঃসাহস লাগে, এতে কোন সন্দেহ নেই। সব সময় আত্মহত্যা অযৌক্তিকও নয় হয়তো। কেউ যদি মনে করেন তিনি জীবনে যা যা পেতে চেয়েছিলেন, পেয়েছেন, তৃপ্ত হয়েছেন, এখন চলে যাওয়া উচিত, তাহলে আত্মহত্যা তার কাছে অর্থপূর্ণ হতেই পারে। সুস্থ হয়ে ওঠার কোন সম্ভাবনা না থাকলে এবং সম্পূর্ণরূপে অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে বেঁচে থাকাকে কেউ যদি অসম্মানের, অমর্যাদাকর মনে করে আত্মহত্যা করতে চান, সেই আত্মহত্যার অধিকারও তার আছে। জাতির, দেশের, পরিবারের, এমনকি নিজের জীবনের উপর বৃহৎ শক্তির আক্রমণের মুখে নিশ্চিত মৃত্যু জেনে কেউ যদি শত্রুর হাতে মৃত্যুর চেয়ে নিজেকে নিজে শেষ করে দিতে চান, তবে সেটাও হতে পারে। জন্ম স্বেচ্ছানির্ধারিত হতে শুরু করেছে বেশ আগেই, বিশেষ বিশেষ প্রেক্ষাপটে মৃত্যুও স্বেচ্ছানির্ধারিত হলে অহেতুক মৃত্যুভীতি থেকে মানুষের মুক্তিও ঘটতে পারে।




যারা আমাকে অপছন্দ করেন, কিন্তু আমার চিন্তাকে চ্যালেঞ্জ করেন, তাদেরকে আমি পছন্দ করি। কারণ তাদের চ্যালেঞ্জ আমাকে আরো চিন্তাশীল হতে বাধ্য করে। 


মানুষ ব্যাসিক্যালি পৃথিবীর সন্তান, আন্তর্জাতিক, বিবর্তনবাদ বা ধর্মীয় যে ব্যাখ্যাই দেওয়া হোক না কেন। জাতীয়তাবাদের ক্ষুদ্রতা মানুষকে গন্ডীবদ্ধ, দেশবদ্ধ হয়ে থাকাকে চিরকালীন ভাবতে উৎসাহ দেয়, যা অতিক্রম করে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। এই নির্দিষ্টতা বা দেশপ্রেম- যা একটি দেশের প্রতি টান অভ্যাসের বিষয় ও সংকীর্ণতা। একতরফা প্রেম হয় না। তাই 'দেশপ্রেম', প্রেম না; দেশপ্রেমের বাগাড়ম্বর রাজনৈতিক কূটকৌশল মাত্র।




আমার কোনো সংঘ নেই, গোষ্ঠী নেই, আমার বয়সী গতানুগতিক ছেলেদের মতো খুব বেশী বন্ধু নেই। মহাকালের পাড়ে দাড়িয়ে থাকা নিঃসঙ্গ বৃক্ষটির মতই আমি একা। আমি প্রচণ্ড প্রথা বিরোধী এক তরুন। বর্তমান সমাজের প্রচলিত প্রায় সকল প্রথাই আমার কাছে চরম আপত্তিকর । আমার চারপাশের উল্লাসিত প্রথা যাপন দেখে আমি ব্যথিত হই কিন্তু এই ব্যথার নিরাময় আমি জানি না। আমার ব্যথায় অন্য কেউ ব্যথিত হোক এমনটি আমি আশাও করি না। আমার এই বেদনাগুলোকে আমি একাই যাপন করি এবং করতে চাই। কিন্তু যেহেতু আমি সামাজিক জীব তাই মাঝেমধ্যে আমার ব্যথাগুলো ক্রোধ হয়ে ফুঁসে ওঠে। তবে আমার এই ক্রোধ কখনোই কাউকে আক্রান্ত করে না, করবেও না। আমার সময়ের অন্যান্য সংখ্যাগড়িষ্ট তরুণদের কেউই প্রথা বিরোধী নয়। এদের জীবন দর্শন নেই, সৃষ্টিশীলতার হাহাকার নেই, কোনো সামাজিক দুঃখবোধ ও নেই তারপরেও তারা আমার চেয়ে কয়েকশত কোটি গুন বেশী আক্রমণাত্মক। তাদের এই আক্রমণাত্মক মনোভাব দিন দিন হিংস্রতার সীমারেখা অতিক্রম করে যাচ্ছে। এর কী কোনো সমাধান আছে ? নাকি জাতির তরুন রক্ত পুষবে নির্বীর্যের শাপ? ভবিষ্যৎ কি বেরিয়ে আসতে পারবে বর্তমানের প্রথাগত অন্ধকার থেকে?



আমাদের দেশের লৌকিক চিকিৎসা ব্যবস্থার যে ঐতিহ্য ছিল, তা উপনিবেশিক আমলের চিকিৎসা ব্যবস্থার কারণে অনেকটাই বিনা পরীক্ষায় বাতিল হয়ে যায়। এখন কিন্তু পৃথিবীব্যাপী আবার এইসব বিষয় নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। সব হয়তো গ্রহণীয় নয়, কিন্তু সব বর্জনীয়ও নয়। এর সাথে উপনিবেশিক শাসনব্যবস্থার একটা যোগাযোগ তো আছেই।


"তোমাদের এক মুহূর্তের দ্রোহের দামে
বেচতে চাই আমার সমগ্র জীবন
তারা বলে সমাজতন্ত্র ব্যর্থ। তারা দেখাক পুঁজিবাদ কোথায় সফল?" - কমরেড ফিদেল ক্যাস্ট্র'র এই উক্তিটি।


সমাজতন্ত্র নাকি ব্যর্থ? সমাজতন্ত্র মানে সবার আগে সমাজের সকল মানুষের জন্য অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা এই ৫টি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা। আর এটা প্রমাণিত সত্য যে সমাজতন্ত্র ছাড়া আর কোন তন্ত্র মানুষের এই ৫টি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারে না। তাই সমাজতন্ত্র ব্যর্থ হলে মানবাধিকার ব্যর্থ হবে।


অতএব সমাজতন্ত্রকে ব্যর্থ না বলে বরং বুঝার চেষ্টা করুন সমাজতন্ত্র কি এবং কেন।

তাহলেই বুঝবেন যে কোন খনিজসম্পদ নাই, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারনে কোন আমদানি রপ্তানি কিন্তু তারপরও সাম্রাজ্যবাদী মার্কিনের নাকের ডগায় বসে কমরেড ফিদেলের কিউবা কিভাবে সমাজতন্ত্র টিকিয়ে রেখেছে এবং জনগণকে সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিবাদী মার্কিন জনগণের চেয়ে ভালো মানসম্পন্ন জীবনযাত্রা দিতে পেরেছে।


সমাজতন্ত্রের কারনে পৃথিবী পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলোতে যেসব পরিবর্তন এসেছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে,

১। নারী ও কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য সমান মর্যাদা ও সমঅধিকার

২। মাতৃকালীন বেতনযুক্ত ছুটি

৩। বেকারভাতা

৪। মুনাফায় শ্রমিকের অংশিদারিত্ব

৫। সোশাল ওয়েলফেয়ার রাষ্ট্রব্যবস্থা


মুনাফায় ছাড় দিয়ে এগুলা পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলো মরিয়া হয়ে করেছে পুঁজিবাদ টিকিয়ে রাখার জন্য। অর্থাৎ পুঁজিবাদ নিজেকে টিকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে কিছু ধার করতে, নিজেদের পরিবর্তন করতে। সমাজতন্ত্র না এলে মালিকশ্রেণী কখনোই তার শোষণ কমাতো না, মুনাফায় ছাড় দিতো না। সমাজতন্ত্রের প্রয়োজন পড়েনি পুঁজিবাদ থেকে কিছু নেয়ার কারন অনৈতিকতা থেকে নৈতিকতার কিছু ধার করা লাগে না।

এরপরও বলবেন সমাজতন্ত্র ব্যর্থ?




শিক্ষালয় গুলো হওয়ার কথা ছিলো জ্ঞ্যান বিদ্যার বিচরণ ক্ষেত্র। অথচ এ ধনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় শিক্ষালয় গুলো হয়ে উঠেছে সার্টিফিকেট বিতরণ ক্ষেত্র, ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার শ্রমিক তৈরির কারখানা।



ভাবছি! এই দেশের ছেলেরা একসময় বাউল হতো! নদীর মাঝি, গাঁড়িয়াল, পথিক কে গান গাইতো না? নারীরা গাইতো গীত। পুঁথির আসরে সুরে সুরে মানুষ প্রেমের গল্প শুনতে চাইতো । সে প্রেম বিরহের গল্প মানুষের চোখ দিয়ে জল ঝরাতো।


সেই সুরের দেশে এখন ধর্ষণের খবর ভেসে আসে। মূহুর্মূহু ধর্ষণের খবর। গ্রাম, শহর, প্রার্থনালয়, শিক্ষাঙ্গন, যানবাহন.....।





যান্ত্রিক বস্তুবাদ নয়, প্রাকৃতিক বস্তুবাদের আলোকে সমাজ বিকাশের গতিকে বিচারধারায় আনুন।




সকলের তরে -

পুঁজিবাদ তার প্রয়োজন মত 'জ্ঞানী' বানাচ্ছে, কারিগর বানাচ্ছে, এবং শ্রমিক বানাচ্ছে। স্বতঃস্ফূর্ত জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার দিন ফুরিয়ে আসছে, যা কাম্য নয় এবং প্রকৃতি সিদ্ধ নয়। অতি মেধাবী, কম মেধাবী, গড়পড়তা, সব ধরণের মানুষ দুনিয়ার জন্য দরকারি, একে অন্যের পরিপূরক। একজন বিশাল বিজ্ঞানী, বুদ্ধিজীবী, অধ্যাপক, দার্শনিক কাপড় ছাড়া কি চলতে পারবেন? অথচ এই কাপড় তৈরি 'সাধারণ' শ্রমিকের শ্রম ছাড়া সম্ভব নয়। একটা বলপেন, একজোড়া জোতা, একটা ফোন বা একটা কী বোর্ড ছাড়া অতি মেধাবীর দিনমান পার হবে কি? এসব জিনিস তৈরিতেও লাগবে 'অর্ডিনারী' শ্রমিকের শ্রম। আবার বিশেষজ্ঞদের মেধা, কৌশল, দক্ষতা ইত্যাদিও সাধারণের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। প্রত্যেকের দরকার প্রত্যেকের জন্যই।


জ্ঞান-গরিমা বা জ্ঞানের গরিমা থাকতেই পারে। তাতে দোষের কিছু দেখিনা। বরং তাতে অন্যেরা জ্ঞানচর্চায়, মেধা বিকাশে উদ্বুদ্ধ হবে। অহম ভাব নিয়ে আপনিই মহান, আপনি ছাড়া সকলে অচল, এই অর্থহীন কথা এড়িয়ে 'সকলের তরে সকলে মোরা' এই কথার মর্মার্থ অনুধাবন করতে পারলেই মঙ্গল।


একটি সমাজে, সকলের চিন্তন প্রক্রিয়া ও মেধার চূড়ান্ত বিকাশ ছাড়া সমাজের অর্থনৈতিক মুক্তি সম্ভব নয়।


আমি মানুষ, এর বাইরে অন্যকোন পরিচয় জিজ্ঞাসা না করলে অত্যন্ত খুশি হব। আড়ালে থাকতে পছন্দ করি, সবকিছুর আড়ালে। জনপ্রিয়তাকে মনেপ্রাণে অপছন্দ করি, এটা আড়ালে থাকার একটা মূল

কারণ। ফেসবুক/ইন্সটাগ্রাম যেকোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জনপ্রিয়তার দৌড়ে আমি নেই। আমি আমার মত করে, আমার জগতে বসবাস করি সুতরাং জবাবদিহিতার কোন স্থান আমার এখানে নেই ।



মানুষের জীবনে আজ মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে বন্ধুরা। পাহাড়-সমতল-উজান-ভাটিতে প্রত্যেকটি জায়গায় মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। নদী-পাহাড়, বনের সাথে মিশে আছে বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠীর সংস্কৃতি। প্রকৃতির এই বিরুদ্ধতার জন্য প্রায়শই অসংখ্য প্রাণ বলি হচ্ছে । তবে কি উন্নয়ন মানবতা বিরোধী? এ নিয়ে অনেক আলোচনা চলছে সারা বিশ্ব জুড়ে। পৃথিবীতে প্রতিটি জীবের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। এই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মানবাধিকার কর্মী, পরিবেশকর্মী, সমাজকর্মী থেকে শুরু করে সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে, মানবাধিকারকে আরও বিস্তৃত করার সময় এসেছে বন্ধুরা।




ভোরবেলা। সূর্য উঁকি দিচ্ছে কেবলই। সবুজ নরম ঘাসে টলটলে শিশির হীরের কণার মতো চমকাচ্ছিলো। চারপাশে পাহাড়ের গায়ে সুবিন্যস্ত গাঢ় সবুজ চায়ের বাগান ।





বর্ষার-বর্ষণমুখর অনুজ্জ্বল দিনের পর শরতের মেঘের মতো আমাদের মনও যেন হালকা হয়ে আসে। স্বপ্নের মতোই মনে হয় শরতের দিনগুলোকে। চারপাশে ছড়িয়ে থাকে অনেক স্বপ্ন। আমরা সেসব স্বপ্ন কুড়িয়ে নিয়ে ভাবতে বসি কত কিছু!


শরতের আকাশ, শরতের নদী, শরতের ফুল এই সবকিছুই কেমন যেন শান্ত-মায়াময়। শরতের এই শুভ্র রূপ পবিত্রতার প্রতীক। বিলের শাপলা, নদীতীরের কাশফুল, আঙিনার শিউলি—সবই কোমল এবং পবিত্র। যখন শিশিরের শব্দের মতো টুপটাপ শিউলি ঝরে তখন আসে অনুভবের শরৎ। কাশবনে দল বেঁধে আসে চড়ুই পাখিরা। শান্ত নদীতে দু’কূল ছাপানো ঢেউয়ের বদলে দৃশ্যমান হয় কাশবনের ছোট ছোট রুপালি ঢেউ।


শরতের স্নিগ্ধতাকে আরও মোহময় করে এ মৌসুমের বিচিত্র ফুলেরা। নদী কিংবা জলার ধারে ফোটে কাশ-কুশ, ঘরের আঙিনায় ফোটে শিউলি বা শেফালি, খাল-বিল-পুকুর-ডোবায় থাকে অসংখ্য জলজ ফুল।






শাসকগোষ্ঠী মুখে বলে এ দেশ একটি গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র , কিন্তু প্রতিনিয়ত মানুষের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের অবশিষ্ট গনতান্ত্রিক অধিকারটুকুও সংকুচিত করে চলেছে ।




বিদ্যায়তনিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় পেশাদারী সৌজন্যবোধ ও সততার বৃহত্তম থেকে ক্ষুদ্রতম লক্ষণ হলো -নিজের অনুভুতিকে বোধগম্য ও স্পষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা।

মতামত তৈরি করার চেষ্টা করা। নিজের আলোচনাকে অপরের উপর না চাপিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকা। বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ(আপেক্ষিক) তথ্য আদান ও প্রদান।


মানসিক পূর্নাঙ্গ বিকাশের জন্য সাহিত্য সংস্কৃতি খেলা-ধুলা অত্যাবশ্যক।চিত্রশিল্প আমাদের প্রাচীন সংস্কৃতির অন্তর্গত যেখানে বাংলার পলল ভূমীর ঘ্রাণ মেলে।সভ্যতা ক্রম-বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তেমনি যাচ্ছে স্বদেশ তবে ভুতের মত উল্টো পথে,এ সমাজ ও রাষ্ট্র-কাঠামো মানসিক যথাযথ বিকাশের জন্য উপযুক্ত ত নয়ই বরং মানসিক রোগ সৃষ্টির কারখানা,অভিযোগ কার কাছে দাখিল করি।


শিশু শিক্ষায় প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষা ব্যবস্থা উঠিয়ে দিয়ে শিশুমূল্যায়ন প্রক্রিয়া দ্বিপাক্ষিক (শিক্ষাকর্মী/শিক্ষক এবং অভিভাবক) হলে ভালো হয়, সেই সাথে আনন্দের সাথে শিশুর সেখার পরিবেশ তৈরি করে দেয়ার কাজ বিদ্যালয় ও পরিবার উভয়েরই। আর শিশুকে শেখার ব্যাপারটাও যেন আরোপিত না হয়ে যায় সেদিকটায়ও খেয়াল রাখা উচিত বলে মনে হয়।




ভাবছি! এই দেশের ছেলেরা একসময় বাউল হতো! নদীর মাঝি, গাঁড়িয়াল, পথিক কে গান গাইতো না? নারীরা গাইতো গীত। পুঁথির আসরে সুরে সুরে মানুষ প্রেমের গল্প শুনতে চাইতো । সে প্রেম বিরহের গল্প মানুষের চোখ দিয়ে জল ঝরাতো।


সেই সুরের দেশে এখন ধর্ষণের খবর ভেসে আসে। মূহুর্মূহু ধর্ষণের খবর। গ্রাম, শহর, প্রার্থনালয়, শিক্ষাঙ্গন, যানবাহন.....।







বিগত পঞ্চাশের দশক থেকে রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের উন্নয়নের নামে যে লক্ষ-লক্ষ আদিবাসী দলিত মানুষদের ভিটে ,মাটি জীবিকা সব থেকে উৎখাত করে এমনকি কখনো কখনো জীবনও হারিয়েছে এই সব বঞ্চিত মানুষ এই সবের জন্য দায়ী কে তা কারো অজানা নয় । সমস্ত মতের ক্ষমতাসীন দলগুলির আগ্রাসী উন্নয়ননীতির সাথে সাম্রাজ্যবাদ ও একচেটিয়া পুঁজির স্বার্থ অভিন্ন হয়ে গেছে । এই সব হারানো মানুষগুলো দীর্ঘদিন ধরে এর বিরুদ্ধে নিজের সাধ্যমত লড়াই করে যাচ্ছে ।সরকার ও ভাড়াটে বাহিনীর হিংস্র আক্রমন চলছে তাদের উপর , বাঁচবার স্বার্থে অস্ত্র হাতে তুললেই তখন যায় যায় রব । রাষ্ট্রই একচেটিয়া পুঁজির স্বার্থে সাধারন মানুষের উপর এই যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে দীর্ঘদিন ধরে । কাশ্মীর বা অন্যান্য উপদ্রুত জায়গায় ,যেখানে জওয়ানরা মারা যাচ্ছে এর জন্যও রাষ্ট্রই দায়ী ।কারন এইসব জওয়ানদের রাষ্ট্র যুদ্ধের অস্ত্রের খোরাক হিসেবে ব্যবহার করে । দেশের যাবতীয় সমস্যা থেকে যে রক্তপাত, তা বন্ধ করার চাবি একমাত্র রাষ্ট্রের হাতেই আছে ।





বিশেষ মর্যাদা

ভিআইপির ধারণা আসলে নব্য ব্রাহ্মণ্যবাদ। কারো চেয়ে কারো মর্যাদা বেশি, এই তত্ত্ব ব্রাহ্মণ্যবাদী। সাহিত্য, বিজ্ঞান, দর্শন, ধর্ম, জাতীয়তা, ইত্যাদির দোহাই তুলে কেউ যখন বিশেষ মর্যাদা বা শ্রেষ্ঠ বলে দাবি করে, তারা বর্ণবাদ প্রমোট করে। বিশেষ মর্যাদার দাবি প্রত্যাখ্যান করুন।



পঙ্গু রাষ্ট্রতন্ত্র

প্রাকৃতিক কারনে যত মানুষ মরেছে বা পঙ্গু বা নিঃস্ব হয়েছে, তার থেকে অনেক বেশি মরেছে বা পঙ্গু বা নিঃস্ব হয়েছে রাষ্ট্রের হাতে, জাতীয়তাবাদের হাতে ধর্মের হাতে মানুষ। পঙ্গু রাষ্ট্রতন্ত্র, পুঁজিতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মতন্ত্র, গনতন্ত্র, বিবিধ তন্ত্রমন্ত্রের লাশ কাঁধে নিয়ে বিপন্ন মানুষকে আর কত শতাব্দী পার করতে হবে কে জানে!



বোধ

দুঃখবোধ এর অনুভূতিগুলো অনেক বৈচিত্র্যময়। তেমনি সুখের। আমার কাছে সবসময় মনে হয় যেকোনো ধরনের সুখবোধ খুউব স্বল্পায়ু। তবে হ্যাঁ, মন-জমিনে সুখ-দুঃখ সহ সবরকমের বোধ, অনুভূতির চাষাবাদে আমাদের মনের উৎকর্ষ হয়। এই উৎকর্ষতা জীবন এর পরিভ্রমণ ও উপভোগের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়।



ধর্মান্ধ মানুষ স্পর্শকাতর, দ্রুতই ধ্বংস যজ্ঞ ঘটায়। কারণ নিজেরা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তারা নিয়ন্ত্রীত হয় ধর্মের অপব্যখ্যায়/নীলনকশায়। ধর্মীয় অপব্যখ্যা সঞ্চারিত হয় গোষ্টী বা ব্যক্তি স্বার্থ থেকে এবং এটাকেই পু্ঁজি করে বৈশ্বিক সমীকরণ - 

গণতন্ত্র/পুঁজিবাদ/অস্ত্রব্যবসা/পরমম্পরায় ধর্মব্যবসা/পুরুষতন্ত্র-------





জীবনের ভালোবাসা হল সাদা কাগজের উপর ঠিক একফোঁটা জলের মতো - বাস্তব বড্ড উষ্ণ, সেই বিন্দু জল একদিন হয়ত উবে যায় - কিন্তু তার দাগটা রয়ে যায়। আমাদের মন হল সেই সাদা কাগজ আর বিন্দু জল হল একফোঁটা ভালোবাসা । মানুষ ভালোবাসা ছাড়া বাঁচতে পারে না, যে ভালোবাসার বিরোধী, সে আসলে বড় অভিমানী।


ভালোবাসা মানে শুধুই ভালোবাসা - কামনা বাসনা বা সমস্ত জাগতিক চেতনার উর্দ্ধের কোন অপূর্ব প্রেম বোধ ! যেখানে অন্তর বিকশিত হয় প্রতিনিয়ত।



এই তথাকথিত সভ্যতা-সংস্কৃতি নারীকে যত না অধিকার সচেতন করে তোলে, তারচেয়ে অনেক বেশি তাকে পণ্য করে তোলে।



"বনের আগুন সবাই দ্যাখে, মনের আগুন কেই বাদ্যাখে!"


নিভে আসছে বাগরী আগুনের সাথে সাথেই চল্লিশ হাজার জড়িত শ্রমিক কর্মচারীদের ঘরের উনুনের আগুন। সম্ভবত চিরতরে। না একটি মৃত্যুরও খবর নেই এখনো। এই হতভাগ্যদের কর্ম সংস্থান, তাদের সামাজিক সঞ্চয়, তাদের সপরিবারে বেঁচে থাকার দায় দায়িত্ব কে নেবে? কোন মালিক ? কোন সরকার ? কে শুনবে তাদের জীবনের ব্যথা যন্ত্রণার কথা? কোন সভ্য সমাজ ?



ভাবনা

আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে শুধু টাকাপয়সায় বড় করতে চাইছি, বিত্ত বৈভবে বড় করতে চাইছি, বিলাসে বড় করতে চাইছি ওদের মূল্যবোধের ক্ষতি করে। সে "বড়"টা কি সত্যিই বড়? বাবা-মায়েরা আপনারা একটু ভাবুন কি কি করছেন আপনাদের সন্তানদেরকে নিয়ে। একটু ভেবে দেখার বড্ড প্রয়োজন হয়ে পরেছে।


বন ধবংসি বিদ্যুৎ কেন্দ্র

মানুষ এতটাই স্বার্থান্বেষী হয়ে পড়েছে যে প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় থাকার বিভিন্ন উপাদান গুলিকে নষ্ট করতে দুবার ভাবেনা। যে দেশে মুক্তচিন্তার নিরাপত্তা নেই সে সমাজে, সন্ত্রাস- বাদ ছাড়া আর কোন মানবতাবাদ চাষ হবে ? দেশপ্রেমের আবেগে ধোঁয়া দিয়ে শাসক দল ও শাসক শ্রেণীর স্বার্থ চরিতার্থ হয় কিন্তু তা প্রকৃতি শুধু নয় মানুষের পক্ষেই যায় না ।




বিষয় -- স্কুল শিক্ষার্থী বন্ধুদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন


ওরা কখনও আর ওদের জন্য বিচার চাইবে না হয়তবা। ওরা সবসময় আসে না। ওরা আসে দু'চার যুগে একবার। আর প্রতিবারই ওদের ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে নিজের রক্ত দিয়ে। ১৯৫২'তে ওরা এসেছিল, জয়ী হয়েছে। এরপর ১৯৬৯, ১৯৭১, ১৯৯০'তেও এসেছিল। ওরা জিতেছে ফিরেছে প্রতিবার ত্যাগ দিয়ে।


এবার ওরা রাস্তায় নেমেছিলো, রাস্তা ছেড়ে দিয়েছে রক্ত দিয়ে। ওরা মার খেয়েছে, ওরা হেরে গেছে। আপনাদের আর ভোগান্তি দিবে না। ওরা রাস্তা আটকে রাখবে না আর। বাস বন্ধ করে রাখবে না। ওরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে লাইসেন্স চেক করে আপনাদের বেআইনি চলাচলের কারণ জিজ্ঞেস করে বিরক্ত করবে না। লাইসেন্স ঠিক থাকলে হাসিমুখে আপনাকে একটা লজেন্স হাতে দিবে না। আপনাদের আর মাইলের পর মাইল হেঁটে যেতে হবে না। গাড়িগুলো নিয়মের মেনে সুশৃঙ্খলভাবে চলবে না। এ্যাম্বুলেন্স যাওয়ার জন্য লেন করে দিবে না।


ওরা নিজেদের লাভের জন্য আসেনি। ওরা এসেছিলো আপনাদের সকলের চলাফেরার সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য। হ্যাঁ, হয়তো দীর্ঘমেয়াদী একটা ভালোর কাজের জন্য কয়েকটা দিন আপনাদের অনেক কষ্ট দিয়েছে। কিন্তু বিশ্বাস করুন বা নাই করুন, ওদের মনে কোনো খারাপ চিন্তা ছিল না, বিশ্বাস করুন।


ওরা হেরে গেছে। কিন্তু ওরা যে আদর্শ শিখিয়ে গেছে সেগুলা আপনারা চাইলে ধরে রাখতে পারেন। ওরা হেরে গেছে কিন্তু ওদের আত্মত্যাগ বিফলে যেতে দেবেন না। রাস্তায় সাবধানতা অবলম্বন করলে আপনার কিন্তু কোনো ক্ষতি নেই। হয়তো আপনার সাবধানতা দেখে ওদের রক্তাক্ত মুখে একটু হাসি ফুটবে।


'১৮তেও এলো ত্যাগ স্বীকার করতে। এবার হয়তো জিততে পারেনি। কিন্তু আবার যখন ওদের দরকার হবে দেখবেন আপনি ডাকার আগেই ওরা আপনার পাশে এসে দাঁড়িয়ে বলবে বারবার, বকবে "ভয় নেই আপনার, আমরা তো আছি।" তখন নাহয় ওরা জিতবে।




নাস্তিকতা ফ্যাশন নাকি আধুনিকতা ?


কিছু কিছু ধর্মের উৎপত্তি ১৪০০ বছর, ২৫০০ বছর আগে, আবার কিছু কিছু ধর্ম এত আদিম ও প্রাচীন যে, এগুলোর নির্দিষ্ট কোনো উৎপত্তি কালই নেই। এই সব পুরনো জিনিস কি ফ্যাশনের যোগ্য। এই যুগে বাস করে আপনাকে যদি আমি কাপড় না পরে গাছের বাকল পরতে বলি কিংবা নগ্ন থাকতে বলি, আপনি আমাকে বন্য ও অনাধুনিক বলে ঠিকই গালি দেবেন । কিন্তু বিশ্বাসের ক্ষেত্রে আপনি ঠিকই এইসব প্রাচীন ধারনা অক্সিজেনের মত ফুসফুসে ক্যান্সারের মতো ধারণ করে আছেন। এমনকি এই সব ধর্মীয় ধারণায় যে ভুল থাকতে পারে, সেটাই অধিকাংশ লোক বিশ্বাস করে না। তাহলে আপনি কিভাবে আধুনিক হলেন? অনাধুনিক বিশ্বাস ধারণ করে আধুনিক কাপড় চোপড় পরিধান করলেই কি আধুনিক হওয়া যায়?

এই ক্ষেত্রে নাস্তিকতা ফ্যাশন হলে সমস্যা কী? নাস্তিকতার পেছনে যুক্তি ও প্রমাণ আছে। আর ধার্মিক /অনাধুনিকদের আছে শুধু ভিত্তি-প্রমাণহীন বিশ্বাস। ধর্মবিশ্বাসীরা হাগু করা থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত সবকিছুতেই বিজ্ঞানের মজা উপভোগ করে, কিন্তু ধর্মের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও যুক্তিকে অস্বীকার করেই থাকে ! তাহলে এটা কীভাবে আধুনিক হয়?

নাস্তিকতা নিয়ে ফ্যাশন করার কিছু নেই, কারণ নাস্তিকতা হল চিন্তার যৌক্তিক পরিবর্তন।

আধুনিক মানুষ হওয়ার জন্য বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক চিন্তা আধুনিক পোশাকের চাইতে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।



ছোট বড় জলাশয় তীরবর্তী স্থান গুলি থেকে কোন জাদুমন্ত্রে তারা আজ অন্তর্হিত ! বাজারের বিশ্বায়িত আহ্বানে তারা আজ দেশে দেশে হোটেলের ডিশে, কিংবা, পরীক্ষাগারের টেবিলে শায়িত অত্যন্ত লাভজনক একটি রপ্তানি দ্রব্য। ফলত এদেশের সাপেরা আজ ক্ষুধার তাড়নায় অস্থির। গ্রামাঞ্চলে ভীষণ রকম তাই বেড়ে গেছে সাপের কামড়। গ্রামাঞ্চলে এই সময়ে সাপের কামড় প্রায় মহামারীর পর্যায়ে। প্রযুক্তি এখন উপায় খুঁজছে সর্পনিধনের, সর্প বাণিজ্যের। ব্যাঙের অনুপস্থিতিতে নানা ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের বাড়বাড়ন্ত শস্য/ফসলের পক্ষে হানিকর হয়ে উঠছে। তাদের নিকেশ করতে ব্যবহার করা হচ্ছে কীটনাশক। এসব কীটনাশকে মরছে মোমাছিরা। খিদের জ্বালায় মরতে বসেছে পাখিরা! বেড়ে চলেছে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা হাজারে হাজারে। ক্যান্সার বিদ্যা বা অঙকোলজির বাণিজ্যিক বৃদ্ধি এখন আকাশ ছোঁয়া ! মানুষের যাবতীয় মগজ ও মন এসময় ব্যস্ত রয়েছে cyberneticsএ 3D সলিউশন ফিড করতে। নিত্য নতুন বাণিজ্যিক চাহিদা পূরণ করার সন্ধানে আজ সে বিনিদ্র। মানুষ স্বেচ্ছায় বন্ধক রেখেছে তার বিদ্যা বুদ্ধি বিবেক জীবন যন্ত্রমানস বিদ্যার পদতলে। 'আমি কেবলই স্বপন করেছি বপন বাতাসে...।' আজ শব্দ সমাহার থেকে যান্ত্রিক ভাবে কম্পিউটার কবিতা বানায়, বর্ণ সমবায় থেকে ছবি! এমন উদাসীনতায় আমাদের ভয় হয় না? এমন ধ্বনি আমরা শুনেছি যা কানে শোনা যায় না, এমন রং জেনেছি যাতে কোন রং নেই। অভিকর্ষের টান ছাড়ানো এক অসূর্য গহ্বরে লাফিয়ে পড়বার আগের লহমায় থমকে দাঁড়িয়ে আছে মানুষ, মানুষের শিল্প, মানুষের সাহিত্য। প্রথম আলোর চরণধ্বনি একদিন শুনেছিল মানুষ, সেই থেকে ধ্বনির বিকাশ সে জানে, রঙের প্রকাশ তার চেনা। আজ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, পৃথিবী থেকে তা নিকিয়ে নিতে পারে কেউ সব রং, মুছে নিতে পারে সব শব্দ। মানুষের শিল্প, মানুষের সাহিত্য চেতনা বিবেক এই অমানবিকতার বিরুদ্ধে এক হোক। আমাদের শিশুরা ওই যন্ত্র মানসের ফাঁদে পা না দিয়ে নিজের নিজের বুদ্ধি বিদ্যা আবেগ বিবেকসহ জৈবিক স্বাভাবিক উপাদান গুলো কাজে লাগিয়ে ব্রতী হোক পৃথিবীর রূপ রস গন্ধ স্পর্শ আনন্দ উপভোগ করার নব নব দিগন্ত উন্মোচন করার প্রয়াসে, ফিরে আসুক মানবিক 'আবিষ্কারের' দুনিয়ায়, বাণিজ্যিক'ইনভেনশন'কে বিদায় জানিয়ে। তাদের আগামী পদক্ষেপে গড়ে উঠুক এক নতুন সজীব প্রাণচঞ্চল পৃথিবী।





বাংলাদেশের আদিবাসী বা পাহাড়িরা 'ধর্ষণ' শব্দের সাথে কোনকালে পরিচিত ছিল না, কারণ পাহাড়ে আদিবাসী সমাজ বা সংস্কৃতিতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে না। পাহাড়ে এই ধর্ষণের শব্দকে বয়ে এনেছে জিয়াউর রহমানের ঠেলিয়ে দেওয়া অবৈধ অভিবাসীরা। যাদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটেলার বলা হয়। এই সেটেলার বাঙালীরাই আদিবাসী কিশোরী-তরুনী-নারীদের শুরু করে ধর্ষণ, খুন, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে সামাজিক নিপীড়ন প্রত্যক্ষ্য ও পরোক্ষ সেনা মদদে। এমনকি সেখানকার সেনারাও পিছিয়ে থাকেনি। মানবাধিকার কর্মী কল্পনা চাকমাকে সেনাপশুদের ধর্ষণ ও অপহরণ করে গুম করে ফেলার ইতিহাস আমরা ভুলে যাইনি। স্বাধীনতার পর থেকে বহুবার পাহাড়ে সেনাদের ও বাঙালীদের(সেটেলার) দ্বারা ধর্ষিত হয়েছে অসংখ্য আদিবাসী কিশোরী, তরুনী, নারী। পার্বত্য চট্টগ্রামে ধর্ষক সেনাসদস্য থেকে শুরু করে বেসামরিক সৈন্য, এমনকি সেটলারদেরও বিচার হয় না৷ আশ্চর্যজনকভাবে সেসব আদিবাসী নারী ধর্ষণে এদেশের অধিকাংশ বাঙালীদের মানবতাবোধ জাগ্রত হয় না। আদিবাসীরা জানে, কোন খুন-ধর্ষণের আসামীর সর্বোচ্চ বা ন্যুনতম শাস্তি নিশ্চিত করা যায়নি। ৫/১০ হাজার থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা, কিছু সন্তুষ্টি বাক্য বা ভয়ভীতি দিয়ে দফারফা করা হয়।


শুধু কৃত্তিকা ত্রিপুরা নয়, সারা দেশে আদিবাসী নারীদের উপড় প্রতিনিয়ত নিপীড়ন, নির্যাতন, ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার মত ঘটনাগুলো ঘটে চলেছে। কাপেং ফাউন্ডেশনের এক রিপোর্ট অনুযায়ী এ বছরের জানুয়ারী মাস থেকে জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে কমপক্ষে ২৫ জনের মত আদিবাসী নারী শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলেও সত্য এ সকল ঘটনাগুলোর একটিরও সুষ্ঠু বিচার হয়নি। শাসকগোষ্ঠীর সাম্প্রদায়িক মনোভাবের দরুন বিচারহীনতার সংস্কৃতির ফলে এ সকল ঘটনাগুলো দিন দিন বেড়ে চলেছে।


পাশের দেশ ভারত ধর্ষণের অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়ে আসছে, ফাঁসির ঝুলিতে ঝুলেছে শত শত ধর্ষক । রেহায় পায় নি ধর্মগুরু রাম রহিম, আশারাম বাপুর মতন ধর্ষকরাও, এরাও ফাঁসির ধড়ির জন্য দিন গুনছে।


এদেশে মাদ্রাসায় প্রতিদিন শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে হুজুর-মৌলবিদের দ্বারা। সপ্তাহ অন্তর অন্তর পাহাড়ের নারীরা ধর্ষিত হচ্ছে সেখানকার সেটেলার বাঙালিদের দ্বারা। সারা বাংলাদেশেই ধর্ষণের হার বেড়ে গেছে বহু গুনে, আদিবাসী বা বাঙালি কোন নারীই নিরাপদে নেই আর। এদেশ কতজন ধর্ষককে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছে, ক'জনকে কোনদিন সঠিক বিচার দিতে পেরেছে? ক'জন ধর্ষক মৌলবি বা ধর্মীয়গুরুকে ফাঁসির ঝুলাতে পেরেছে?


পার্বত্য চট্টগ্রামে ধর্ষক সেনাসদস্য থেকে শুরু করে বেসামরিক সৈন্য, এমনকি সেটলারদেরও বিচার হয় না৷ পাহাড়ে পরিকল্পিত হামলায় পাহাড়িদের শত শত ঘর পুড়িয়ে দিলে, গুম করলে, হামলা করলে কোনো বিচার হয় না৷ পাহাড়ি নারীদের ধর্ষণ করলেও কোনো বিচার নাই৷ ধর্ষক, খুনিরা দিব্যি মুক্তি পেয়ে যায়৷ তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়৷ এর দীর্ঘ ইতিহাস আছে৷ সেই খুনি, সেই ধর্ষকদের রাষ্ট্র রেশন দিয়ে প্রতিপালন করছে৷ 


ধর্ষকের জন্য কোন ক্ষমা নাই, মৃত্যদন্ড না হোক, কিন্তু এমন একটা শাস্তি দেওয়া হোক যার জন্য বাকিরাও কোন শিশু, নারীকে ধর্ষণ করার আগে ঘটনাটি মনে পড়ে। মৃত্যু মানে মুক্ত জাগতিক সবকিছু থেকে মুক্ত করে দেয়া, তাই ধর্ষকদের এমন শাস্তি দেওয়া হোক যেন প্রতিনিয়ত মৃত্যর যন্ত্রণা ভোগ করে। এরকম শাস্তির বিধান না থাকলে, নতুন বিধান তৈরি করুন !




ঊনতা অনেক পরিচিত, অপরিচিত, জানা মানুষ আছেন, যারা অতিতের অনেক উজ্জ্বল আন্দোলনের মালা পরে আজ ঘুরে বেড়ান ৷ কিন্তু মগজে সেই আন্দোলনের আদর্শের শেকড় কোনদিন গেড়ে বসেনি ৷ তাই তাদের দেখি পুঁজির আদর্শের অর্শ দৈনন্দিন জীবনে প্রতি মুহুর্তে প্রতিফলিত হতে ৷




সাংস্কৃতিক নিষ্ক্রিয়তা

এদেশের নাগরিক সমাজের মানবিক বোধ, বুদ্ধিবৃত্তিক জগতের মানুষের মেরুদণ্ড, মানুষের বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নিষ্ক্রিয়তা প্রত্যাশার আলো নিভিয়ে দিয়েছে। এদেশের শিল্পী-সাহিত্যিক-সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে ধেয়ে আসছে অন্ধকারের। 'সভ্য বাংলাদেশ"-র স্বপ্নরা আর জেগে নেই।



মানুষের অধিকারে আবরণ পড়ে এতো ভারী হয়ে গেছে আর সরাবার সময় নেই। বুঝতেও পারছে না তাই যে যা বলছে সেই দিকেই ছুটছে। রাজনৈতিক চাপে আজকের মানুষ দিশেহারা। যেই ক্ষমতায় থাকুক তাদের সমস্ত অপকর্মের সাফাই 'দেশের ও দশের স্বার্থে'। মানুষকে ঠকাবার আচ্ছা কৌশল। এ এক অপমানজনক ঘৃন্য কৌশল যার মোহে পরে যাচ্ছে সাধারণ মানুষ, দল-গোষ্ঠী, আমার নেতা বলে গড়িয়ে পড়ছে আহ্লাদে। সাধারণ মানুষের পায়ের তলায় প্রতিনিয়ত মাইন পাতা চলছে, খুব সাবধান কখন কার পা পরে। গণবিধ্বংসী আইন, চেতনা এবং মানবাধিকারের বুলি আওড়ে জনসমর্থনের চালাকি কে, আর কবে বুঝবে মানুষ?





মানুষ শিখেছে পৃথিবীর কাছ থেকে নিজের দরকার মতো জিনিস জোর করে আদায় করে নিতে। তাই মাটির বুক চিরে ফসল আদায় করা, মাটি পুড়িয়ে পাথর কেটে বাড়ি গাঁথতে শেখা। আকাশকে জয় করবার জন্য মানুষ উড়োজাহাজ বানিয়েছে, পাতালকে জয় করবার জন্য পরেছে ডুবুরীর পোষাক। এভাবেই একটার পর একটা মানুষ নিজের প্রয়োজন মত জয় করে চলছে। 

বিজ্ঞান, আবিস্কার, হাতিয়ার জয় করে চলছে অবিরত নতুন নতুনত্ব। 

আমরা কিন্তু সেই মানুষ যে মানুষ প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সাথে লড়াই করে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বকে জানান দিচ্ছি।

তাই মানুষ কোন মতবাদের গোলাম বা দাস থাকতে পারে না। কোন মতবাদই মানুষকে শ্রেষ্টত্ব দিতে পারেনা। সকল মতবাদই মানুষকে বন্ধী করার চেষ্টা করেছে। সকল মতবাদই মানুষকে শাসন শোষণ করার চেষ্টা করেছে, এবং সকল মতবাদই একটা সময় বিলিন হয়ে গেছে।কোন মতবাদই এক যুগ কিংবা এক শতক পার না হতেই ভুল প্রমানিত কিংবা তার কার্যকারিতা ধরে রাখতে পারে না।

কোন মতবাদই পৃথিবীর বৃহত্তম জনগোষ্ঠী দুরের কথা এক তৃতীয়াংশ মানুষকেও শাসন কিংবা একত্রিত করতে পারে না। ।।

সে যে কোন মতবাদই হোক না কেন, ঐশ্বরিক বা কাল্পনিক সৃষ্টিকর্তার নাম করে বিভিন্ন ধর্মীয় মতবাদ কিংবা সামন্তবাদ, পুঁজিবাদ, গনতন্র, সমাজতন্ত্র সহ কোন মতবাদই দীর্ঘস্থায়ী ভুমিকা রাখতে পারে না।

 
 
 

Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating
bottom of page