বাংলা নববর্ষে পাহাড়ে রাষ্ট্রের উন্নয়নের উপহার !
- Subrata Shuvro
- Jun 26, 2022
- 1 min read
হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার স্টেশনের জন্য বাঁধ নির্মাণের জন্য আলীকদম মাতামুহুরি নদীতে স্থান নির্বাচন হয়েছে। পাহাড় আর পাহাড় থাকছে না। এর চেয়ে বড় সুখবর আর কিইবা হতে পারে।
কাপ্তাই বাঁধে পাহাড়ে কি ঘটেছিল?! পাহাড় কি পেয়েছিলো মনে আছে? কত লক্ষ মানুষ যাযাবর হয়েছিল, দেশান্তরী হয়েছিল মনে আছে?
মাতামুহুরি নদিতে আরেকটা বাঁধে আলীকদম, লামায় তথা পাহাড়ে কি ঘটবে তা স্পষ্টতই অনুমেয়। আলীকদমের আদিবাসীরা বিশেষ করে ম্রো, তঞ্চংগ্যা এমনিতেই মায়ানমারের পথে, এবার তা আরো তোড়জোড় হবে এবং দেশান্তরী করার পথ দারুণভাবে সুগম হবে।
পাহাড়ে পর্যটন মহলে ছেয়ে গেছে, উন্নয়নের নামে উচ্ছেদ, উন্নয়নের নামে পাহাড়ের নদীতে বাঁধ দেয়ার প্রকল্প গ্রহন, উন্নয়নের নামে পোহামুহুরি পর্যন্ত রাস্তা, কি হচ্ছেনা! এসবে কাদের উপর, কিসের উপর নেতিবাচক প্রভাব পরছে তা খতিয়ে দেখবার কেউ নেই!
উন্নয়নের নামে এথনিক ক্লিনজিং হচ্ছে! কখনো 'বন রক্ষার(!)' নামে উচ্ছেদ করে নামে মাত্র পুনর্বাসন করবেন, বিদ্যুতের জন্য বাঁধ দিয়ে উচ্ছেদ করবেন, ইতিহাস বলে কাপ্তাই বাঁধে কিভাবে পুনর্বাসন করা হয়েছিল। পর্যটন, সেনাবাহিনী, বিজিবি হেডকোয়ার্টার, ক্যাম্পের নামে, মাল্টি রিসোর্টের নামে উচ্ছেদ করছেন।
ক'বছর পর উন্নয়নের নামে এভাবে তাড়াতে হবে না, আদিবাসীরা এমনিতেই নাই হয়ে যাবো। গতকাল পত্রিকায় দেখেছি, দু জনকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছে। মন্টি বা দয়াসোনা চাকমার কোন খবর নেই, অরাছড়ির বোনেরা হয়তো এতদিনে দেশান্তরী হয়ে গেছে। সুবিধাবাদী, লুণ্ঠনকারী, রিসোর্ট ব্যবসায়ীদের বিষবাস্পে এমনিতেই আদিবাসী ও আদিবাসী সংস্কৃতি মৃতপ্রায়।
রাষ্ট্র কেন এই সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সম্পদ ভাবতে পারছে না?
আর পাহাড়ের সৌন্দর্য কি শুধুই এর প্রাকৃতিক নৈসর্গে, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে নয়?
১৬ এপ্রিল, ২০১৮




Comments